দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফেরাতে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমলাতন্ত্রের ফিজিক্যাল কন্টাক্ট বা সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল জিটিবি ও ১৫তম গ্যাপেক্সপোর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরুর ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর প্রধান শর্ত হলো আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণ। যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ বেশি থাকে, সেখানেই দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনলে দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে।’ আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। এছাড়া বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি আব্দুল হাই সরকারসহ খাতসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘সীমিত কিছু ব্যবসায়ীর দুর্নীতি, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির ও অলিগার্ক শ্রেণীর ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য আমরা চাই বাংলাদেশের ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড, যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে।’
অধিবেশনে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, বাংলাদেশকে একটা ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড নেশনে পরিণত করার। আমাদের সেই সক্ষমতা, উদ্যম, উদ্যোগ ও উদ্যমী মানুষ রয়েছে। আমার কাজ আপনাদের এ চলার পথকে কীভাবে আরো মসৃণ ও সহজ করা যায়।’
বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘এটা শুধু প্রদর্শনী নয়, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে যারা কাজ করেন তাদের মিলনমেলা। ২১০০ সদস্যের সংগঠন আমাদের।’
প্যাকেজিং শিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণ খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পেপার প্যাকেজিং পণ্যকে ২০২৬ সালের বর্ষ পণ্য হিসেবে ঘোষণা এ খাতের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজের ৭০০ বিলিয়ন ডলারের চাহিদা রয়েছে। আমরা মাত্র ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সরাসরি রফতানি করছি।’